Wednesday, May 19, 2021

অধ্যাপক পূর্ণেন্দু সেন

 এ শোক বড়ই ব্যক্তিগত...

আজ দুপুর একটা একত্রিশ মিনিটে দেবোজ্যোতি দার সংক্ষিপ্ত একটা মেসেজ "P.S স্যার নেই"। অফিসে থাকাতে মেসেজ টা সাথে সাথে দেখতে পারিনি। দেখার পর কিছুক্ষণ বাকস্তব্ধ হয়ে গেছিলাম। এত স্মৃতি, এত কথা, এত ভালোবাসার ভার যে কি দুঃসহ হতে পারে তা আজ বুঝছি। এ আমার পিতৃবিয়োগের সমান। হ্যাঁ, P.S নামেই গোটা বহরমপুর আর মুর্শিদাবাদের মানুষ তাঁকে এক ডাকে চিনতেন। বহরমপুর কৃষনাথ কলেজের পদার্থবিদ্যার প্রাক্তন অধ্যাপক পূর্ণেন্দু সেন আজ সকালে প্রয়াত হয়েছেন। মূলতঃ যাঁর জন্য পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসা নিয়ে ফিজিক্স অনার্স পড়া ও পরবর্তী কালে যাঁর অসম্ভব প্রভাব আমার জীবনে, তিনি চলে গেলেন আর দু হাজার কিমি দূরে বসে তাঁর শেষকৃত্যে না থাকতে পারার যন্ত্রণা ও অসহায়তা আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
স্যারের কাছে প্রথম ফিজিক্স পড়তে শুরু করি উচ্চমাধ্যমিকের সময় থেকে। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই পড়া শুরু হয়ে গেছিল। স্যারের কাছে পড়ার চান্স পাওয়া যাবে কিনা সেটা নিয়ে সবার মধ্যেই একটা দুশ্চিন্তা থাকতো কারণ বহরমপুর শহরে ওঁনার কাছে পড়ার একটা বিশাল ডিমান্ড বা ক্রেজ ছিল সে সময়। আমাকে সেসব ভাবতে হয়নি কারণ আমার দিদিও ওঁনার কাছে পড়তেন। তাই মাধ্যমিকের পর প্রথম যে দিন ওঁনার বাড়ি যাই দিদির সাথে, ওনার সেই অননুকরনীয় হাসির সাথে উনি দিদি কে বলেছিলেন "তোর ভাই, পাঠিয়ে দিস"। সেই শুরু... পরের টা আজ ইতিহাস।
ওঁনার পড়ানোর একটা অদ্ভূত অনন্য স্টাইল ছিল। থিওরির থেকে প্রবলেম সলভ করার ওপর গুরুত্ব বেশি দিতেন। উচ্চমাধ্যমিকে পড়বার সময়ই সব ছাত্র ছাত্রীদের পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে অঙ্ক কষতে যদি উৎসাহ না থাকে, তাহলে ফিজিক্স না পড়াই না ভালো! উনি পদার্থবিদ্যার থিওরি গুলোও বোঝাতেন অঙ্ক নির্ভর করে। উচ্চমাধ্যমিকের দু বছরে এমন একটা দিনও মনে পড়ছে না যেদিন উনি কোনো অঙ্ক করান নি! ক্লাস XI- এ নিউটনিয়ান মেকানিক্স পড়ানো শুরু করবার আগে উনি ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাস শিখিয়েছিলেন কারণ আমাদের সময়ে ক্যালকুলাস ছিল ক্লাস XII এর অঙ্ক সিলেবাসে। আর যেহেতু ক্যালকুলাস ছাড়া নিউটনিয়ান মেকানিক্স অসম্পূর্ণ, তাই আগে ক্যালকুলাস শেখো, তারপর নিউটনিয়ান মেকানিক্স পড়ো। আমাদের পড়াতেন আর একটার পর একটা সিগারেট পোড়াতেন। দুটোই বোধহয় সমান নেশা ছিল! উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ফিজিক্স অনার্স নিয়ে কৃষ্ণনাথ কলেজে ভর্তি হলাম। তারপর থেকেই ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে স্যারের সাথে। কি অকৃত্রিম যে ভালোবাসতেন আর স্নেহ করতেন আমাকে। কলেজে এমন কোনো ছাত্র ছাত্রী ছিল না যে স্যারের একটা ক্লাসও মিস করত। সিম্পলিসিটি একটা অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছিল স্যার কে, সে পড়ানোর ক্ষেত্রেই হোক বা ব্যক্তি জীবনেই হোক। কিন্তু খুব কড়া ছিলেন। সবাই সমীহ করতেন। কলেজের একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে এই প্রসঙ্গে। অনেক বন্ধু বান্ধবই কিছু শিক্ষকের থিওরি ক্লাস করত না কিন্তু প্র্যাকটিকাল করতে আসত। স্যার এটা লক্ষ করেন এবং একদিন হঠাৎ থিওরির অ্যাটেনড্যান্স রেজিস্টার হাতে নিয়ে প্র্যাকটিকাল শুরু হওয়ার আগে ল্যাবের সামনে বসে আছেন। যারা সব থিওরি ক্লাস করে নি, তারা ল্যাব করতে পারবে না। সেদিন মাত্র দুজন ল্যাব করতে পেরেছিল, আমি আর অভিজিৎ। অনেক অনুরোধ, কাকুতি মিনতি করেও স্যার আর কাউকে ল্যাবে ঢুকতে দেন নি। এবং উনি বলেছিলেন এরকম হঠাৎ হঠাৎ উনি এবার থেকে চেক করবেন এবং থিওরি না করলে ল্যাব করা বন্ধ করে দেবেন। না, কেউ কোনো আন্দোলন বা অভিযোগ করে নি সেদিন। উল্টে পরের দিন থেকে কেউই অকারণে আর থিওরি ক্লাস মিস করার সাহস দেখায় নি। পরের দিন থিওরি ক্লাসে উনি সব ছাত্র ছাত্রী দের অনেকক্ষণ ধরে বুঝিয়েছিলেন যে "সব শিক্ষক শিক্ষিকা কখনোই একই রকম পড়ান না, প্রত্যেকের পড়ানোর নিজস্ব ধরণ থাকে। পছন্দ হচ্ছে না বলে কিছু শিক্ষক শিক্ষিকার ক্লাস বাঙ্ক করব, এটা অসভ্যতামী ও শিক্ষক শিক্ষিকার প্রতি অপমান করা। তোমরা মনে রাখবে প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষিকাই ক্লাসের আগে একটা প্রিপারেশন নিয়ে আসেন। বুঝতে না পারলে একাধিকবার জিজ্ঞেস করবে কিন্তু হতাশ করবে না। ভালো না লাগলেও তাঁদের ক্লাস নোটস্ গুলো নিয়ে রাখবে, পরীক্ষার আগে সুবিধে হবে। কিন্তু ক্লাস বাঙ্ক কখনো করবে না।" এই ছিলেন স্যার। কখন যে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক টা ব্যক্তিগত হয়ে গেছিল, বুঝতেই পারিনি। কত সময় যে স্যারের বাড়িতে কেটেছে। তখন বোধহয় B.Sc সেকেন্ড ইয়ার। কিছু একটা বুঝতে না পেরে স্যারের বাড়ি গিয়েছি আলোচনা করতে। স্যার বলেছিলেন "দেখ সুমন, প্রত্যেক টা সাবজেক্টের একটা নিজস্ব ল্যাঙ্গুয়েজ আছে। ইকনমিক্স বা ইতিহাসের যেমন একটা ভাষা আছে, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি বা অঙ্কেরও একটা নিজস্ব ভাষা আছে। সেটা যদি বোঝার চেষ্টা না করিস, তাহলে সেই সাবজেক্টের ভেতরে ঢুকতে পারবি না কোনোদিন।" সেদিন কত টা অনুধাবন করতে পেরেছিলাম জানি না, তবে বয়স বা অভিজ্ঞতা যতো বেড়েছে তত উপলব্ধি করেছি কথাটার অর্থ। বহরমপুর ছেড়ে সায়েন্স কলেজে M.Sc পড়তে যাওয়ার আগে যে দিন প্রণাম করতে গেলাম স্যারের বাড়ি, চলে আসার আগে বলেছিলেন "পিএইচডি টা করিস যেনো"। M.Sc পাস করার পর সাথে সাথে কোনো রিসার্চ ফেলোশিপ পেলাম না। সাতদিনের মধ্যেই কলকাতার বাসন্তীদেবী কলেজে আংশিক সময়ের শিক্ষকের পদে একটা ইন্টারভিউ দিয়ে চান্স পেয়ে গেলাম। ওখানেই পড়াতে শুরু করলাম। বহরমপুরে স্যারের সাথে দেখা করতে গেলাম ও কলেজে পড়ানোর ব্যাপারে পরামর্শ চাইলাম। শুনে বললেন "যা পড়াবি বোর্ডে পুরো টা লিখবি। আর ডেরিভেশন করার সময় কোনো স্টেপ বাদ দিবি না। তুই যেটা পড়াচ্ছিস সেটা যে সবাই বুঝছে, তা কখনোই ধরে নিবি না। কিন্তু বোর্ডে যা লিখবি সেটা সবাই লিখে নেবে। পরে ছাত্র ছাত্রী রা তোর ক্লাস নোটস্ টাই দেখবে যে সুমন স্যার কি কি পড়িয়েছিল ক্লাসে। আর কখনোই এক টানা বোর্ডে লিখে যাবি না। ছাত্র ছাত্রী দের 'ফেস রিড' করার চেষ্টা করবি আর প্রশ্ন করবি। তাতে নিজেকে অ্যাসেস করতে পারবি কত টা ভালো বা খারাপ পড়াচ্ছিস।" পরবর্তী কালে যেখানে যা পড়িয়েছি, স্যারের কথা গুলো মনে রাখার চেষ্টা করেছি। সেদিনও আসার আগে বলেছিলেন "একটা ফেলোশিপ জোগাড় করে PhD টা করিস, বেশী দেরী করিস না"। তার পরে যখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে ঢুকি, খুব খুশি হয়েছিলেন। যখনই বহরমপুরে গিয়ে ওঁনার সাথে দেখা করতে গেছি তারপর, উনি বলতেন "কি গবেষণা করছিস একটু বোঝা তো দেখি", সাথে সেই অননুকরনীয় হাসি। আর কাকিমা কে বলতেন " সুমন এসেছে, লিকার চা করো"। লাস্ট যখন ২০১৯ এর নভেম্বরে বহরমপুরে গিয়ে দেখা করতে গেলাম ওঁনার সাথে, তখন কাকিমা আর নেই। স্যারের চেহারা টাও বেশ ভেঙে গেছে দেখলাম, শরীরও ভালো ছিল না খুব একটা। তবু কাজের দিদি কে বললেন "লিকার চা করো"। আশি বছর বয়সেও অশক্ত শরীরে উনি মনে রেখেছেন আমি লিকার চা খেতে ভালোবাসি। কতটা আন্তরিকতা থাকলে এই আপাত তুচ্ছ ব্যাপার গুলো লোকে মনে রাখে তাই ভাবছিলাম। কত বিষয়ে যে কত কথা হয়েছিলো সেদিন!
অধ্যাপক ছাড়াও ব্যক্তি পূর্ণেন্দু সেন কে নিয়ে দু চার কথা না বললেই নয় আজ। যে পরিশ্রম আর যত্ন নিয়ে 'কৃষ্ণনাথ কলেজ প্রাক্তনী সংসদ' (Krishnath College Alumni Association) উনি গড়ে তুলেছিলেন তা আমার মতো অনেকেই নিজের চোখে দেখেছেন। একটা সংগঠনের সাথে অনেক লোক জড়িয়ে থাকেন। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম মতামত। তবুও সবাই কে নিয়ে কিভাবে একটা সংগঠনকে চারাগাছ থেকে মহীরুহে রুপান্তরিত করতে হয়, স্যার সেটা দেখিয়ে গেছেন। আক্ষরিক অর্থেই আজ আমরা অভিভাবকহীন। প্রাক্তনী সংসদ কে পূর্ণ অবয়ব দিতে গিয়ে কখন আবেগ কে গুরুত্ব দিতে হয় আর কখন শক্ত হাতে হাল ধরতে হয়, প্রয়োজনে অপ্রিয় সত্য বলেও, তা শিখেছি আমি স্যারের কাছে। প্রাক্তনী সংসদের শুরুর দিনগুলো খুব মনে পড়ছে আজ। তখন আমি কলকাতায় পড়াশোনা করছি। কি প্রচণ্ড অধিকারবোধ থেকে আমাকে কত কিছু করতে বলতেন। কত বড় বড় ব্যক্তির সাথে আলাপ করিয়ে দিয়েছেন আমার। প্রাক্তনীর প্রত্যেক টা সভা তে বক্তৃতা দিতেন মূল বিষয় থেকে একটুও সরে না গিয়ে অথচ কোনো আড়ম্বর নেই, কোনো শক্ত শব্দ প্রয়োগ নেই! সম্ভবত সেটা ২০০৩ বা ২০০৪ সাল। কলকাতার নন্দন-২ প্রেক্ষাগৃহে প্রাক্তনী সংসদের সভা। সেই প্রথম রাজা সৌমেন্দ্র নন্দী প্রাক্তনী সংসদের কোনো সভা তে আসছেন। আমাকে আর কৌনিক কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো যাঁরা প্রাক্তনী সংসদে যা দান করবেন, তার রসিদ কেটে দেওয়া। সেদিন স্যার 'প্রাক্তনী সংসদের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তব অবস্থা' নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সভা শেষে চা জলখাবারের সময় প্রায় প্রত্যেকেরই আলোচনার বিষয় ছিল স্যারের বক্তৃতা। কিন্তু কোনোদিন নিজেকে এতটুকুও জাহির করেন নি। প্রাক্তনী সংসদের কাজ, দায় ও দায়বদ্ধতা নিয়ে সবসময়ই বহুত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন। কলেজের নাম পরিবর্তন নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। শেষবার যখন দেখা করতে গেলাম তখনও জিজ্ঞেস করছিলেন কি করে কি করা যায়। আক্ষেপ থেকে গেলো শেষ দেখে যেতে পারলেন না।
যে কোনও বিষয়ে নিজের মতামত দেওয়া থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখেন নি স্যার। গা বাঁচিয়ে চলাটাই যখন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন স্যার ছিলেন উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম। অফিস থেকে ফিরে প্রাক্তনী সংসদের বর্তমান সেক্রেটারির সাথে কথা হচ্ছিলো। শেষের দিকে স্যার খুব একা হয়ে গিয়েছিলেন। কোভিড - 19 রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর হয়তো একটু আশার আলো জেগেছিল সবার মনে। কিন্তু না, স্যার কি কিছুটা সেচ্ছামৃত্যুও চেয়েছিলেন? যে সব কান চারপাশের লোকজনের গুণগান শুনতে অভ্যস্ত, স্যার কোনোদিনও তা রপ্ত করতে পারেন নি। চানও নি। মৃত্যুর মধ্যে দিয়েও হয়তো সেটাই বুঝিয়ে গেলেন। ওঁনার ঋজু মেরুদন্ডই আমাদের আগামীর পাথেয় হোক।
Rest in Physics স্যার।
নিচের ছবিটি ২০১৯ এর নভেম্বর মাসে ওঁনার বাড়িতে তোলা। দেবোজ্যোতি দা তুলে দিয়েছিলো।

সুমন সিনহা
১৮/০৫/২০২১


Wednesday, May 5, 2021

Life and Works of Satyajit Ray

Suman Sinha

Disclaimer: I am neither a film critic nor a student of film studies nor a student of history. This write up is an attempt to review the life and works of legendary Satyajit Ray in my humble way on his birth centenary after watching all most all of his movies and documentaries and reading a number of different types of articles on him. The present write up is inspired to a great extent by an address of Mr. Utpal Dutta, the veteran actor, director and playwright, on Satyajit Ray in a seminar organized by the Sahitya Akademi, Government of India after the untimely demise of Mr. Ray in 1992.

First of all, Satyajit Ray’s reputation is not limited to as a film director. That a man can be a film maker, designer, painter, writer of note, music composer, song writer, book illustrator and an acknowledged authority on the art and history of painting is inexplicable. Versatility falls short of to describe him. He was a man of conscience and throughout his life, he was always truthful to the society. Through each and every film, he conveyed the message of social responsibility, political consciousness and economical status of our country. His courage and ability to question the authority or to challenge the establishment was of paramount importance in his character. He was an epitome of institutional antithesis or anti-establishment. This question-the-authority nature was manifested in various forms in all of his films.

This began with his very first film ‘Pather Panchali’ (Song of the road, 1955) when he was 34 years old. The highest executive of the Government of India saw it in Calcutta, now Kolkata, and went red in face. Fuming, he asked Mr. Ray whether showing such poverty on celluloid would not bring India to disrepute in the eyes of the world. Mr. Ray’s answer was “if it is not disreputable for you to tolerate such poverty, why should it be disreputable of me to show it?” The answer, needless to say, was a solid slap on the face of power. This cry that films should not present the stark reality of Indian life but must whitewash it, has been heard again and again not only from the politicians and the bureaucrats but also from the capitalists and a section of frustrated film personalities. All these organs of big capital propagandized that Ray’s films do not entertain but make you worry about problems. So, avoid Ray’s films at all cost and watch the ‘mainstream cinema’ where the heroin gets soaking wet in the rain while singing and the hero single-handedly knocks 10 toughs out. Was that or is this real India where there is no inflation, no unemployment, no suffering? Obviously, it is inspired by the ideas of market economy of free capitalist growth which implies surrender of young filmmaker to the mercy of the big capitalists of cinema. Ray was always of the opinion that there can be no free market in the arts and the cultural world. Does a free competition between millionaires and paupers make any sense? This policy, being enforced on the cultural world, results in the forced exit of every serious filmmaker, thus leaving the field clear for an unending supply of trash and rubbish, which are ennobled by a sexy name ‘mainstream cinema’. And who does not know that trash always sells better than classics!

The Government of India was in a hibernation for a long time regarding Ray’s works. They woke up late as usual and discovered one fine morning that there is a genius in Kolkata! The bureaucrats in New Delhi suddenly hastened to confer a Bharat Ratna, the highest civilian award of India, upon him, only because the Americans gave him the Oscar. Of course, by that time, Ray was showered with every prize the film world has to offer. But those were merely European prizes which do not count! Oxford University conferred a doctorate on him but again, one has to be a bit learned to realize the importance of Oxon. Even the ‘Legion of Honour’, the highest French order of Merit, was pinned on Ray’s Jacket by the President of Republic of France, the land of arts and cultures, long before the Oscar. But an American award smells sweeter! So, the game of singing Ray’s glory began in great haste in New Delhi when the man was in a state of coma in a Kolkata hospital. And man in coma cannot refuse an award!

It is ironical that USA is the only country that had not shown any of Ray’s important films commercially before his death. The message was very clear – we honour you but your creations are not wanted here. We do not want a trade rival in USA. Equally brazen was the Indian Government’s hypocrisy. It is a shameless bluff that while conferring its highest award on Ray, it has kept Ray’s film on Sikkim under a ban! The Indian Television, controlled mostly by corrupt coterie, showed some of his films after his death but after making arbitrary cuts and censoring dialogues. ‘Teen Kanya’ (Three Daughters, 1961) was reduced to Two Daughters, one story having been totally left out. They cut lines after lines of dialogues in ‘Ghare Baire’ (The Home and the World, 1984), ‘Sadgati’ (The Deliverence, 1981). Please note that ‘Sadgati’ is a film made specifically for the TV and therefore challenging its dialogues constitute an attack jointly on Ray and Munshi Premchand, the writer. What a way of showing respects! Personal adulation for the auteur but neglect for and even opposition to his films is all the Nation has gifted Ray during his lifetime. A golden handshake with the dying Ray will never exonerate it of its sins.

Ray’s films as well as films by various young experimenters need protection from the film mafia of big tycoons who control distribution, production and every other aspects of film making. Here lies the role of the Government. It should take initiative in educating its people rather than considering the film industry only as a source of endless taxation. Given the opportunity to watch serious films for some time, people would reject the gruesome, mindless sex and violence of the commercial ‘mainstream cinema’ and demand more and more socially conscious films.

Poverty, unemployment, lack of opportunity, superstitions, feudalism, religious dogmatism, political violence, proletarian movement, hypocrisy and pretensions of the so-called civilized elite, life of a child in the backdrop of his mother’s extramarital affairs, the pains and aspirations of a lonely wife who is interested in arts, literature and poetry and many such raging social and political issues constitute the oeuvre of Ray’s films.

In ‘Pather Panchali’ (Song of the Road, 1955), Ray’s protagonists suffer from poverty created by man. They are evicted from their home because of a system that condones exploitation, not that the Gods have willed it so. Or take ‘Devi’ (The Goddess, 1960) where a common house wife is shown as the reincarnation of a Goddess until the boy, she loves more than her life, is dying. The revolt against the concept of Gods, as it has been understood in the depths of the Indian country side, reaches fruition in ‘Devi’. ‘Devi’, which finely plots the religious dogmatism, is a revolutionary film in the Indian Context. Ray’s masterpiece ‘Jalshaghar’ (The Music Room, 1958) heralds the death of feudalism and the suicidal excesses of the aristocracy. The history of overturning social relations has been captured in the film. ‘Shatranj ke Khiladi’ (The Chess Players, 1977) is also a revolt against feudalism in a different way, where the Mughal feudals who are so devoid of love for country that they play chess while English imperialists imprison their masters and their country is enslaved. ‘Sadgati’ (The Deliverence, 1981) portrays the Indian proletarian movement perhaps for the first time in Indian cinema. We have been presented with the fact that the working class does not mean the slogan-shouting union man as we have been usually fed with. ‘Sadgati’ is the first Indian film to capture the real Indian worker who is doubly exploited – exploited as a worker and exploited as a lower caste. The Ray of ‘Sadgati’ is certainly a poet of the contemporary world, confronting the elements of class struggle. In his first Calcutta Trilogy ‘Pratidwandi’ (The Adversary, 1970), Ray addresses the burning political issue of unemployment and corruption and shows the audience how an educated middle-class man is caught up in the turmoil of social unrest of 1970s Bengal, leading to an end of his career aspirations and still he fails to compromise with his revolutionary political ideologies. In ‘Ganashatru’ (The Enemy of the People, 1989), Ray declares without any reservation that the individual is always right and the majority always wrong, being aware of the fact that the masses have advanced to a political role in the society. Or take ‘Shakha Prosakha’ (Branches of the Tree, 1990) where Ray flays the immorality of a middle class, wedded to the capitalist ideal of making money. In his last film ‘Agantuk’ (The Stranger, 1991) Ray has exposed the naked truth that religion, which divides the people only, is a by-product of civilization. Ray questions the so-called civilization that is able to wipe out a city by pressing a remote button and simultaneously showers contempt and hatred on the tribal who have not learnt the art of murder. Ray indicts civilization of illusion. Or consider ‘Hirak Rajar Deshe’ (Kingdom of diamonds, 1980) which was his response against Emergency decree declared in 1975. This film is a rebel against all forms of dictatorship, thought-control, illegal arrests and deportations – more relevant now of all times. The dialogues exchanged by the protagonists of the film are rhyming except the teacher, symbolising the fact that while the thoughts of everybody else are bound, the teacher is a free thinker.  The discussion on Ray’s films can thus be extended as each and every film of Ray is open to be viewed from many perspectives. In a recent interview, Sandip Ray, son of Satyajit Ray, stated that, had his father lived in these times, he would have remade the political satire ‘Hirak Rajar Deshe’.

Commemorating Satyajit Ray on his birth centenary by garlanding his bust or statue will remove the contemporaneity of Ray’s ideas from our sight only and relegate him to a museum of ancient statutory. Instead, a proper tribute to Mr. Ray would be to watch his films and make arrangements for his films to be shown all over the country at cheaper rates. The ideas and thoughts, expressed in his films, have never been more relevant than contemporary times.

Suman Sinha
05/05/2021


Thursday, April 29, 2021

Irrfan Khan

    Last year on this day, Sahabzade Irfan Ali Khan, popularly known as Irrfan Khan or simply Irrfan left us. It was his personal choice to add an extra 'r' in his name. Irrfan Khan, a name synonymous with struggle, persistence and consistency is a phenomenal talent in the filed of arts. With no godfather in Bollywood or Hollywood, he had conquered the hearts of movie-lovers and left a lasting impression in the cinema world. Irrfan was described by Peter Bradshaw of The Guardian as a "distinguished and charismatic star in Hindi and English-language movies whose hardworking career was an enormously valuable bridge between South Asian and Hollywood cinema". 
    He did never typecast him and the adjective which describes him best is perhaps versatility. Born in Rajasthan into a Muslim family of Pathans with Rajasthani ancestry, Irrfan used to paly cricket well and was selected in the prestigious CK Nayudu Trophy for emerging players under 23 category. However, he failed to attend as he could not afford travel expenses. He was influenced by his maternal uncle who was a theatre artist in Jodhpur. He did a number of stage performances at his early age in Jaipur where he was introduced with noted theatre artists. On completion of his MA in Jaipur, he joined National School of Drama (NSD) in New Delhi in 1984 to study acting.
    Just after his graduation from NSD in 1987, Irrfan made his debu with Mira Nair's 'Salaam Bombay' with a minor role. Since then, he acted in numerous television serials, teleplay, drama films as well as various other films. Few of them, which deserves special mention, are 'Laal Ghaas Par Neele Ghode' (he played Lenin in the teleplay), 'Bharat Ek Khoj', 'The Great Maratha', 'Chandrakanta' (90s supernatural fantasy period drama). Irrfan also played the famous revolutionary, Urdu poet and Marxist political activist of India, Makhdoom Mohiuddin in 'Kahkashan'. Few of his critically acclaimed films in his early career are 'Kamla Ki Maut' (opposite Roopa Ganguly, 1989), 'Ek Doctor Ki Maut' (1990) and 'Such A Long Journey' (1998). Unfortunately, all these went unnoticed! The historical film 'The warrior' (2001), where he was cast as the lead, opened at international film festivals. In 2004, his outstanding performance in 'Maqbool', an adaptation of Shakespeare's Macbeth, was very much critically acclaimed. 
    It is until 2007 when he came up with box office commercial hits 'The Namesake' and 'Life in a Metro', which won him Filmfare Best Supporting Actor Award. The very next year came his international success with 'Slumdog Millionaire', for which he won the Screen Actors Guild Award for Outstanding Performance. He will always be remembered for his remarkable performance in the title character in 'Paan Singh Tomar' (2011), which won him the National Film Award for Best Actor. He went on to gain critical acclaim for his starring roles in 'Life of Pi' (2012), 'The Lunchbox' (2013), 'Piku' (2015), 'Talvar' (2015), 'Jurassic World' (2015) and 'Inferno' (2016).  His rejection to a big offer in the 'Interstellar' for 'Lunchbox' in 2013 shows his commitment towards work. 
    Irrfan's most commercial hits (highest grossing) came with 'Hindi Medium' (2017) and his final screen appearance was in its sequel 'Angrezi Medium' (2020). These two performances won him the Filmfare Award for Best Actor in 2018 and 2021 (posthumously). He has a National Film Award, an Asian Film Award and six Filmfare Awards among numerous accolades to his credit. He was awarded the Padma Shri in 2011 and Filmfare Lifetime Achievement Award posthumously in 2021.
    Let me conclude with an incidence which shows his recognition in global level. Julia Roberts once stopped outside the Kodak theatre where Oscars were being staged, just to compliment Irrfan Khan on his brilliant performance in the movie 'Slumdog Millionaire' (2008).

Rest in arts Irrfan !!

Suman Sinha
29/04/2021



Wednesday, April 28, 2021

তিনদিন আগে খবরটা শোনার পর থেকেই মন টা ভারাক্রান্ত। বিশ্ববরেণ্য পরিচালক মৃণাল সেন মহাশয়ের ব্যবহৃত আর্কাইভযোগ্য নথি, পুরস্কার কিছুই আর পশ্চিমবঙ্গ বা আমাদের দেশে থাকলো না। ওঁনার পুত্র কুনাল সেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে এসব দান করে দিয়েছেন সংরক্ষণের জন্য। কুনাল বাবুর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারি মৃণাল সেন মহাশয় ওঁনার আলস্য থেকে কোনোদিনই নিজের সৃষ্টিকে যত্ন করে ধরে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন না। উনি জীবিতকালেই ওঁনার 'deep distrust for nostalgia' থেকে নিজের চিঠিপত্র, চিত্রনাট্য, পান্ডুলিপি সবই ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। বাকি যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, সেটুকু মাত্র তিনটে কার্ডবোর্ডের বাক্সেই ধরে যায়! শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই কুনাল বাবু কে প্রথম অনুরোধ করেন যে তাঁরা মৃণাল সেন মহাশয়ের নথিপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ আর্কাইভে সংরক্ষণে আগ্রহী। আমরা আত্মবিস্মৃত জাতি। এই আক্ষেপ থেকেই যাবে যে 'ক্যালকাটা 71' এর নির্মাতার কোনো স্মৃতিচিহ্ন কলকাতা শহরে রইলো না আর। কুনাল বাবুর কথায় "I don't know if anybody will be interested in him or his life in another hundred years." অনাদরে, অবহেলায় পড়ে থাকার চেয়ে ওঁনার নথি যদি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগারের বিশেষ আর্কাইভে স্থান পায়, সেটাই কাম্য। কুনাল বাবু সঠিক কাজই করেছেন। সরকারও কি উদাসীন!

এ প্রসঙ্গে বলে রাখি ওঁনার সংগ্রহের কিছু বই মুম্বইয়ের Film Heritage Foundation - এ এবং আরো কিছু বই, ছোটোখাটো আসবাবপত্র ও ব্যক্তিগত কিছু সরঞ্জাম উত্তরপাড়ার 'জীবনস্মৃতি' তে রাখা আছে। ওঁনার ব্যবহার্য কিছু জিনিস যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও রাখা থাকবে।

কারোর উৎসাহ থাকলে এই ওয়েবসাইট টি দেখতে পারেন।

সুমন সিনহা
১২/০৪/২০২১

ছবি : আন্তর্জাল


Monday, April 26, 2021

বছর কুড়ি পর

দিনটা ছিল পনেরোই মার্চ। কে.সি স্যারের বাড়ির গলি যেখানে বড় রাস্তায় এসে মিশেছে, ঠিক সেই মুখটায় দাঁড়িয়েছিল সুপ্রিয়। নতুন সিগারেট ধরা সুপ্রিয় মোড়ের দোকান টা থেকে একটা সিগারেট কিনে অনভ্যস্ত ভঙ্গিতে একটু বেশী সাবধানী হয়েই সিগারেট টা টানছিল। চেনাজানা কেউ যেন দেখে না ফেলে। সুপ্রিয়র তখন বি.এস.সি সেকেন্ড ইয়ার। সময় কাটানোর বেশ ভালো একটা উপায় সিগারেট খাওয়া, তবুও সময় যেন কাটতেই চাইছিল না সুপ্রিয়র। অনেক কিছু ভাবার চেষ্টা করছিলো সুপ্রিয়, বোঝারও। কিন্তু এলোমেলো হাওয়ার মতোই ভাবনাগুলোও বড় এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল।
বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি অবশ্য। তাই চিন্তা ভাবনার অবকাশও স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। সিগারেট টা শেষ হওয়ার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই মুখ ঘুরিয়ে দেখে অমলিনা আসছে। সুপ্রিয় কে দেখে যে এতটা অবাক হবে সেটা সুপ্রিয়ও অনুমান করতে পারেনি। তবে মুখে বহু পরিচিত হাসি ফিরিয়ে আনতেও বিলম্ব করেনি অমলিনা। এটা বুঝতেও অমলিনার কোনো ভুল হয়নি যে তার জন্যই সুপ্রিয়র দাঁড়িয়ে থাকা। বুদ্ধিমান, সপ্রতিভ সুপ্রিয় সেটা লুকোবার চেষ্টাও করেনি।
অমলিনা মুখে হাসি নিয়েই জানতে চেয়েছিলো বসন্তের শুরুতেই সকালবেলায় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ টি। জানতে চাওয়ার মধ্যে হয়তো একটু সূক্ষ্ম ব্যাঙ্গও ছিল। সুপ্রিয় যে একটু অপ্রতিভ হয়ে পড়েনি এই প্রশ্ন শুনে এমনও নয়। তবে উত্তরও দেয় নি। কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়না। বা যে উত্তরে গোপনীয়তা রাখার দায় সুপ্রিয়র নেই, সেটা উহ্য থাকাই বরং ভালো। বেশ কিছুটা রাস্তা পাশাপাশি হাঁটার পর যখন অমলিনা বলেছিলো অরগ্যানিক কেমিস্ট্রির কয়েকটা রিয়্যাকশন মেকানিজম বুঝিয়ে দেওয়া যাবে কিনা, তখন সুপ্রিয়র হুঁশ ফিরেছিল। পাল্টা জানতে চেয়েছিলো সুপ্রিয় রিয়্যাকশন মেকানিজম বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কেউ বসন্তের শুরুতে সকাল বেলা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিনা। অমলিনাও উত্তর টি উহ্য রেখেছিলো তবে হাসি চাপা দেওয়ার চেষ্টা টি গোপন করতে পারেনি। আরো কিছুক্ষণ চুপচাপ পাশাপাশি হাঁটার পর বলেছিলো " এবার যেতে হবে রে। আর হ্যাঁ, কেমিস্ট্রি টা কিন্তু একদিন বুঝিয়ে দিস...শোন্ কেরিয়ার টা নিয়ে একটু ভাব, ফিউচার টা সিকিউরড্ হবে। কলেজে দেখা হবে.. বাইইই...।"
শুধু কি কেমিস্ট্রিই প্রিয় ছিল সুপ্রিয়র? বেহিসেবী সুপ্রিয় বুঝতে পারেনা ভবিষ্যৎ জিনিস টাই যখন অনিশ্চিত, তাকে সুরক্ষিত করার নিশ্চয়তা কিভাবে দেওয়া যায়!
বছর কুড়ি পর। সুপ্রিয় তথাকথিত অর্থে প্রতিষ্ঠিত। সুরক্ষিত চাকরি। না, সুপ্রিয় কেমিস্ট্রি পড়েনি বা বলা ভালো প্রিয় কেমিস্ট্রি তার কেরিয়ার হয়নি। সুপ্রিয়'র জগৎটা অনেকটা সীমাবদ্ধ, কিছুটা বিচ্ছিন্নও বোধহয়। কয়েকদিনের জন্য নিজের প্রিয় শহরে সুপ্রিয়। স্মৃতির সাথে এনকাউন্টার! কে.সি স্যারের বাড়ির গলির মোড়ের দোকানটায় সিগারেট কিনতে গিয়ে দেখে সেটি বেশ বড় একটা স্টেশনারী দোকান হয়ে গেছে। এটা কি রাইসিং অফ্ দ্য প্রলেতারিয়েত... সত্যিই কি তাই? একটা সিগারেট কিনে ধরালো সুপ্রিয়। কিছুটা আনমোনা। বড় রাস্তার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো সুপ্রিয়, কোনো প্রিয় জিনিসই সুপ্রিয়'র জীবনে স্থায়ী হয়নি, প্রিয়রা কখনো ধরা দেয়নি সুপ্রিয়'র কাছে। সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ বোধহয় প্রিয়দের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়... কাঙ্খিত কেরিয়ারও কি দেয়? বাতাসে সিগারেটের ধোঁয়া গুলো মিলিয়ে যেতে লাগলো।

সুমন সিনহা
১১/০৪/২০২১

বড়দিনের ডায়েরি

গতকাল বড়দিন চলে গেলো। আজকাল যে কোনো উৎসব এলেই কেমন একটা বিষণ্নতা বোধ হয়। উৎসব উদযাপনে অংশগ্রহণ করলেও কেমন একটা অপূর্ণতা থেকে যায়, কিছু একটা না পাওয়ার ব্যাপার অনুভূত হয়। অনেকটা ওই 'কি জানি কিসের লাগি, প্রাণ করে হায় হায়'। এবারে এই প্যান্ডেমিক ক্লান্ত বড়দিনে ঘরের মধ্যে সপরিবারে ছুটি ও উৎসব উদযাপন করতে করতে সেই অনুভূতি আরো প্রকট হল। নিজেকে মাঝে মাঝে কিছুটা বিচ্ছিন্নও মনে হলো।

আমার পুত্রের বয়স ছ'বছর। স্বভাবতই ওর উৎসাহ ও উদ্দীপনা অনেক বেশি। তার কারণও ভিন্ন। বাড়িতে একটা ক্রিসমাস ট্রী আছে। সেটাকে বের করে ঝাড়পোষ করা, তাকে ডেকোরেট করা, তারপর তার মধ্যে টুনি (লেড) লাইট লাগানো - এসবে ওর উত্তেজনার শেষ নেই। উপরিপাওনা হিসেবে এবারে ওর বিগদাদা আবার বিভিন্ন রঙের লেড লাইট জ্বলা একটা বেলুনও দিয়েছে। তাই উত্তেজনার পরিমাণও একটু বেশী এবারে। বিভিন্ন ভাষায় জিঙ্গিল বেল চালিয়ে ওর লাফালাফি, দাপাদাপি করা - এসব দেখতে বেশ ভালোই লাগছিলো। প্রাণের স্পন্দন দেখতে কার না ভালো লাগে। সকালবেলা কেক কাটাও হয়েছিলো।

কেক কাটার সময়ই ছোটবেলার কেককাটার স্মৃতি মনে এলো। আসলে এখন যে কোনো উৎসবের সময়ই আমাদের ছোটবেলার উৎসব যাপনের দিনগুলো মনে পড়ে যায় এবং অবধারিত ভাবে একটা তুলনা চলে আসে। আমার ছোটবেলার বড়দিন পালনের প্রধান অংশ ছিল সকালবেলা কখন কেক কাটা হবে আর মা বিকেলে কখন চার্চে নিয়ে যাবে। তখন বছরে ওই একদিনই কেক আনা হতো বাড়িতে। দু একবার ছাড়া কখনো আমার জন্মদিন পালন করা হয়নি আর জন্মদিনে কেক কাটার রেওয়াজ ছিল না। এখন তো সারাবছরই কেক পাওয়া এবং খাওয়া যায়। সহজলভ্যতা যে কোনো জিনিসেরই গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। তাই বড়দিন কে ঘিরে বছরে একবার কেক কাটার যে একটা রোমাঞ্চ ছিল, সেই রোমাঞ্চ কোথায় হারিয়ে গেছে। আমার ছেলের মধ্যেও কেক কাটার আলাদা কোনো উত্তেজনা নেই। ওর কাছে কেক খাওয়াটা শুধু প্রাতঃরাশ ছিল।

আমাদের ছোটবেলায় সান্তাক্লজের নামটাম বিশেষ শোনা যেতো না। জিঙ্গিল বেল আমি শুনিনি। ক্রিসমাস ট্রী'র ফান্ডা জানা ছিল না। আর মোজার ভেতর সান্তাবুড়ো এসে উপহার সাজিয়ে দিয়ে যাবে - এমন রূপকথার জীবনে বড় হই নি। মেরি ক্রিসমাস উইশ করার বাতিক বা ফর্মালিটিও আমাদের বা বড়দের মধ্যে ছিল না। আমাদের মূল আকর্ষণ ছিল বড়দিনের তিন চার দিন আগে থেকে দোকানগুলোয় রঙিন কাগজে মোড়া বিভিন্ন রকমের কেক সাজানো দেখা। সেই দেখাতেই কি ভীষন খুশী আর আনন্দ। আর বাবার কাছে আব্দার ছিল কেক কিনতে যাওয়ার সময় যেনো আমাকে দোকানে নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য ছিল আরও কাছের থেকে রঙিন কাগজে মোড়া কেকগুলোকে দেখা। কিনবার পছন্দ আমার বা দিদির ছিল না। বাবা বা মা দাম অনুসারে যা কিনবেন সেটাই আমাদের আনন্দের কারণ। শুধু কেনার পর মনে হতো ইশ্ আরেকটু বেশি দাম দিয়ে যদি ঐ কেক টা কিনতো! কিন্তু শুধু মনেই, বলতে পারিনি কোনোদিন মুখে। এবারে যখন ছেলে কে বললাম যে চল্ কেক কিনে আনি, ওর সরল উত্তর ছিল 'বাড়িতেই তো মাইক্রোওয়েভ ওভেন আছে, ওখানে তো মাম্মা কেক বানায় প্রায়ই - বাইরে থেকে কেক কিনতে যাবে কেনো?' ওর এই সহজ উত্তরের মধ্যে ওর অজান্তেই কোথাও একটা প্রাচুর্যতার ইঙ্গিত আমাকে নাড়া দিয়েছিলো। জানিনা এটাকে 'rising of the proletariat' বলা বা ভাবা যায় কিনা! এখন তো উৎসব মানেই প্রাচুর্যতা ও দেখনদারি।আর ছিল বিকেলে মায়ের হাত ধরে আমার আর দিদির চার্চে যাওয়া। সেটাই ছিল বড়দিনের প্রধান আকর্ষণ। মফস্বল শহরের সাদামাটা চার্চ সেদিন আলোয় সেজে উঠত। ভেতরে মেরি মাতা ও যীশুর মূর্তি ও ছবি, মাটির তৈরী মেষশাবক, আলো দিয়ে তারা সাজানো - এসব অপলক মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখতাম। মা যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার গল্প বলতেন, আমরা শুনতাম। বাড়ি ফিরতে মন চাইতো না। মা তাড়া দিলে বলতাম আর একটু, আর একটু। ভিড়ের মধ্যেও ঐ মেষশাবক গুলোকে বারবার দেখে যেতাম। মেরিমাতার কোলে যীশুকে দেখে একটা অদ্ভূত ভালোলাগা কাজ করত। চলে আসার সময় মনে হতো আবার একবছর পর এই চার্চে আসতে পারবো। কখনো আমাদের কে বলা হয়নি যে আমরা কোনও ধর্মীয় স্থানে যাচ্ছি। সেই বোধটাই কখনো আসেনি। ঠিক যেমন বড়দিনের কেক খাওয়ার সময় কখনো মনে হয়নি সেকুলার প্রমাণ করার জন্য কেক খাচ্ছি, সেমাইয়ের পায়েস বা বিরিয়ানি খাওয়ার সময়ও কখনো মনে হয়নি। উৎসবের আমেজ, উৎসবের মেজাজ, উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াতেই উৎসবের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব নিহিত থাকে। ধর্মীয় সঙ্কীর্নতা উৎসবের প্রকৃতি বা চরিত্রের ওপর থাবা বসালে বিষণ্ণতা আসে না? আজকাল যে কোনো উৎসব কে ঘিরেই একটা সমান্তরাল ধর্মীয় প্রচার ও উস্কানি লক্ষ্য করা যায়। সময়ের সাথে উৎসব পালনের ধরন বা রকম বদলাতেই পারে, তাই বলে উৎসবের আবেদন কি পাল্টে যেতে পারে?

এসব নানান কথা ভাবতে ভাবতেই দুপুর গড়িয়ে বিকেলও চলে গেলো। শীতের বিকেলের স্থায়িত্বই বা কতটুকু! সন্ধেবেলা পুত্রের দাবি বা আব্দারে ওর পুণের জেঠু, জেম্মা ও বিগদাদা এলো। পিকুর সম্মানে আরো একবার ওদের আনা কেক কাটা এবং খাওয়া হলো। একসাথে বেশ কয়েকটি ফটোও তোলা হল। ফটো তোলাও এখন কত সহজলভ্য! ছোটোবেলার বড়দিনের কোনো ফটো ফ্রেমবন্দী নেই। ওরা চলে যাওয়ার পর সেই আক্ষেপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবিষ্কার করলাম যে ২৫শে ডিসেম্বর নাকি 'গীতা জয়ন্তী'। এর আগে কখনো জানতাম না। আমার প্রিয় শহরের যে চার্চ নিয়ে এত স্মৃতি, সেই চার্চের সামনেই কিছুজন 'গীতা জয়ন্তী' উপলক্ষে 'গীতা বিতরণ কর্মসূচি' তে অংশগ্রহণ করে 'বড়দিন' পালন করেছেন! চার্চের সামনে ছাড়া অত বড় শহরে আর জায়গা ছিল না গীতা বিতরণ করার! এই আপাত 'ছোট্ট ঘটনা' টি সারাদিনের সুখানুভূতি গুলোকে একটা না-বোঝাতে পারা মনখারাপে ঢেকে দিলো। সেই বিষন্নতা ও গীতাপ্রাপকরা গীতা পড়বেন এই আশা নিয়ে প্রার্থনা করলাম বড়দিন শুভ বোধের হোক, বড় মনের হোক।

শুতে যাওয়ার সময় মহীনের ঘোড়াগুলি'র একটা প্রিয় গান শুনতে বড় ইচ্ছে হলো। তারই তিনটি লাইনের রেশ নিয়ে ঘুমের দেশে পাড়ি দিলাম...

"তবুও কিছুই যেনো ভালো যে লাগে না কেনো 
উদাসী পথের মাঝে মন পড়ে থাকে যেনো 
কোথায় রয়েছে ভাবি লুকিয়ে বিষাদ তবুও।" 

সুমন সিনহা
২৬/১২/২০২০

পর্ব - ৩

যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি...

Prologue 

আমরা সমাজবদ্ধ জীব। সামাজিক নিয়মেই আমরা একে অপরের সাথে কথা বলি, মেলামেশা করি। সময়ের সাথে সাথে কারোর কারোর সাথে বেশি বন্ধুত্ব হয়, বেশী যোগাযোগ থাকে, আবার কারোর কারোর সাথে দূরত্ব তৈরী হয়। কারোর কারোর সাথে শুধু সৌজন্যের সম্পর্ক থাকে, কারোর কারোর সাথে শুধুই পেশাগত সম্পর্ক থাকে। সম্পর্ক যে ধরণেরই হোক না কেনো, প্রত্যেক টা সম্পর্কেরই একটা অর্থ আছে বলে আমি মনে করি, অন্ততঃ থাকা উচিৎ। সে কারণেই আমরা একে অপরের খবর নিই, একে অপরের সাথে কথা বলি ইত্যাদি। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে আড্ডা, গল্প, তর্ক, যুক্তি, প্রতিযুক্তি, মতবিনিময়, আলাপচারিতা সবকিছুই হয়। সেখান থেকে কত কিছু জানা যায়, শেখা যায়, বোঝা যায়। কতজন কে নতুন ভাবে চেনা যায়। পরে যখন সেগুলো নিয়ে ভাবি, তখন একটা মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়। কখনো ভালো লাগার, কখনো খারাপ লাগার। সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু বছর ধরে দেখছি ভালো লাগা বা খারাপ লাগা কোনো অনুভূতিই আর বিশেষ হচ্ছে না। তার জায়গায় হতাশ লাগছে, নিরাশ লাগছে আর ক্রমশঃ যেনো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি অন্যদের থেকে। আরো একা হয়ে পড়ছি। শুধু যে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বা কথোপকথন থেকেই নিরাশ বোধ করছি তা না, চারপাশে ঘটে চলা সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, সংবাদ মাধ্যমে সেগুলোকে দেখানোর ধরণধারণ, ব্যক্তিগত জীবনে ও সামাজিক মাধ্যমে সেসব ঘটনার প্রতি পরিচিত, আধা - পরিচিত ও অপরিচিত লোকজনের প্রতিক্রিয়া - এসব কিছুই বড় প্রভাবিত করেছে ও করে।
সেই সব অনুভূতি গুলোকেই লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি এখানে। কোনোরকম তিক্ততায় আমি বিশ্বাসী নই। "মানুষ বদলায়, তাই সে সুন্দর" - এই বিশ্বাসকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই।
-------------------------------------------------------------------------
পর্ব ৩

এবারে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি নিয়ে নানা জনের নানা আলোচনা, নানা মতামত শুনলাম। মিডিয়া প্রধানত দুটো রাজনৈতিক দলের প্রচার করছে দেখলাম। আর বাম দল গুলো কে নিয়ে এবারে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কথাবার্তা শুনলাম!!

কিছুদিন আগে এক পরিচিত জনের সাথে কথা হচ্ছিলো। নানা বিষয়েই কথা হয় মাঝেসাঝে।হঠাৎ সেদিন তাঁর কাছ থেকে জানতে পারলাম বামমনষ্ক লোকজন কে 'সঠিক বামপন্থী' হতে গেলে তাদের পার্টিমেম্বারশীপ থাকতে হয়!! উনি বামপন্থী মানেই সিপিআইএম বোঝেন আর কি! অনেক টা এই রকম বোঝাল যে ধরুন আপনি তখনই নন্দীগ্রাম বা সিঙ্গুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শিল্প স্থাপনের চেষ্টা করার কথা আলোচনা করতে পারেন যদি আপনার পার্টিমেম্বারশীপ থাকে! বোঝ ঠেলা। উনি বোঝালেন যে ঐ শিল্প স্থাপন করতে গিয়েই পার্টি টা নির্বাচনে হেরে গেছিল আর তারপরই পার্টি টা শেষ হয়ে গেলো। মানে যে বা যারা ওই শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এসব বলেছিলো তারাই পার্টিটাকে শেষ করে দিলো আর কি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই ইঙ্গিত ছিল মূলতঃ। স্বভাববিরুদ্ধ ভাবে আমাকেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করলো খানিক। আমি আর পাল্টা জিজ্ঞেস করিনি তাহলে এবারের নির্বাচনেও সেই পার্টি কেনো শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের লাইনেই চলছে যদি সেটা ভুল হয়ে থাকে? সব রাজনৈতিক দল গুলোই বলে সাধারণ মানুষ তাদের সাথে আছে। তাহলে কি প্রত্যেক সাধারণ মানুষকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের মেম্বার হতেই হবে? কি জানি! তবে ওই পার্টিমেম্বারশীপ ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হলো বলে একটু বোঝার চেষ্টা করলাম। তার ব্যাখ্যা টা এই রকম যে মেম্বারশীপ থাকলে লেভি দিতে হয়, অর্থাৎ টাকা না দিলে আপনার কিছুই বলার অধিকার নেই। ধরুন কেউ যদি চাঁদা দেয়, তাহলে হবে না কিন্তু। লেভিই দিতে হবে! একজন পেশাদার রাজনৈতিক কর্মীর মুখে একথা শুনলে হয়তো এতটা ধাক্কা খেতাম না কারণ Leninist Vanguard পার্টি গুলোর একটা সমস্যা হল যে তারা পার্টি মেম্বারশীপ কে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়। যাই হোক, কারা কিভাবে সিপিআইএম পার্টি মেম্বারশীপ পেয়েছিলো আর তার ফল কি হয়েছিলো, সেসব নিয়ে তাঁর কোনরকম মাথাব্যাথা দেখলাম না। সব ঘেঁটে ঘ হয়ে গেলো। কিছুদিন আগেই 'ধূসর মস্কো' পড়েছি, শুধু বার বার মনে পড়ছিল যে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ও অনায্য সুযোগ সুবিধে পাওয়ার লোভে কোনো ভাবে একটা পার্টি মেম্বারশীপ জোগাড় করার কি উন্মত্ত প্রতিযোগিতা, যার ফল - স্বয়ং লেনিনের দেশেও একদিন কম্যুনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হয়েছিলো! এ হেন পার্টি মেম্বার কে কখনো কখনো নিজেকে অরাজনৈতিকও দেখাতে হয়!!
গত পর্বে স্ট্রাকচারড ন্যারেটিভ কি ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেটা বলছিলাম। সে প্রসঙ্গে বলি, আর একদিন অন্য একজন কথা প্রসঙ্গে বললেন পশ্চিমবঙ্গে বামেদের এমনই দুরাবস্থা যে বুদ্ধ বাবু কে এখনও এই বয়সে বামেদের হয়ে বিবৃতি দিতে হয় বা অডিও বার্তা দিতে হয়। আমি তো শুনে তাজ্জব! একজন পার্টিকর্মী, আদ্যপান্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি মাস দেড়েক আগেই বলেছিলেন অসুস্থ অবস্থায় ঘরে বন্দি হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ না করতে পেরে অস্থির বোধ করছেন, তিনি তাঁর পার্টি কে ভোট দিতে আবেদন করবেন বা পার্টি তাঁকে অনুরোধ করবে এটাই তো স্বাভাবিক। যে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রবীণ সদস্যই তা করতে পারেন। করেনও। কিন্তু বাম দলের কেউ করলেই সমস্যা! ওই যে বললাম 'স্ট্রাকচারড ন্যারেটিভ'! আবার ঘেঁটে ঘ হয়ে গেলাম। প্রচারে বা প্রোপাগান্ডায় মগজধোলাই কি একেই বলে?

সুমন সিনহা 
0৯/০৪/২০২১

জীবনানন্দ দাশ

আজ "নির্জনতম কবি"র মৃত্যুদিন। বিবরবাসী এই মানুষটির সোচ্চার স্বপ্ন ছিলো "কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে"। ভীষন ক্লা...